ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবার হবিগঞ্জে আইফোনের জন্য বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা বদলগাছীতে ফেসবুকে পরিচয়, নির্জন এলাকায় ডেকে নিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই রাউজানে ‘ব্যাগ দে, নাইলে গুলি করে দেব’ নওগাঁয় ১৯০০ কেজি সরকারি চাল জব্দ, ‘মাশুল’ গুনলেন ১১ ব্যবসায়ী মা ও স্ত্রীর ফোন ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করেন ‘ডন বাবু’, অতঃপর... ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠকের অভিযোগ, ভিডিও প্রকাশ করলেন রাশেদ খাঁন বিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আ. লীগ: রিজভী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান দেশকে ‘গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ বানাতে জাপানের বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নিয়ামতপুরে শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক উন্মুক্ত অংশীজন সভা ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে - রাণীশংকৈলে ইউএনও ইসরাত জাহান নিয়ামতপুরে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইদ, সাধারণ সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ রাণীনগরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন নিয়ামতপুরে পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ আত্রাইয়ে স্টেশন এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় দুই শিশু উদ্ধার: পরিবারের সন্ধানে পুলিশ রাণীনগরে বিশেষ অভিযানে ৫জন গ্রেফতার,মাদক উদ্ধার আত্রাইয়ে মাঠপর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে ৬৮ গ্রাম পুলিশের হাতে বাইসাইকেল ​রুয়েটের প্রধান ফটক থেকে উদ্ধার হওয়া সাইকেল আনসার ক্যাম্পে জমা

​পানের বাজারে ধস: কৃষকের চোখে অন্ধকার

  • আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৫ ০৭:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৫ ০৮:০৭:০১ অপরাহ্ন
​পানের বাজারে ধস: কৃষকের চোখে অন্ধকার ​পানের বাজারে ধস: কৃষকের চোখে অন্ধকার
রাজশাহীর দুর্গাপুর-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পান চাষিরা স্মরণকালের ভয়াবহ দরপতনের শিকার হয়েছেন।

গত পাঁচ বছরের মধ্যে পানের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে।

একদিকে সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে উৎপাদিত পানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

অনেক চাষি তাঁদের জীবিকার একমাত্র উৎস এই পান চাষের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি উপকরণের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে।

বিশেষ করে সার ও কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধিতে পান চাষের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

দূর্গাপুরের পান চাষিরা জানিয়েছেন, একজন শ্রমিককে প্রতিদিন ৭০০ টাকা মুজুরি দিয়েও সময়মতো শ্রমিক পাওয়া যায় না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে খৈল, সার, মাটি, বাঁশ ও কীটনাশকের বাড়তি খরচ।

রাজশাহীর একজন কৃষক জানান, একজন শ্রমিক সারাদিনে যে পরিমাণ পান বরজ থেকে তোলেন, তা বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরিই উঠছে না।

ভরা মৌসুমে সরবরাহ বেশি থাকা এবং সুপারির দাম বেড়ে যাওয়ায় পানের চাহিদা কমে যাওয়াকেও দাম কমার একটি কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

চাষিদের অভিযোগ, কম দামে পান কিনে চড়া দামে বিক্রি করে মুনাফা লুটছে বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট। এই মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি ভোক্তাদেরও বেশি দামে পান কিনতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেছেন, দেশের কৃষিপণ্যের বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চলছে, যা ভাঙতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। এই সিন্ডিকেটগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করছে।

একসময়  টাকার গাছ হিসেবে পরিচিত ছিল, তা এখন অনেক কৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে পান এই সময়ে ১০০ টাকা বিড়ি বিক্রি হওয়ার কথা, তা এখন মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। এই সামান্য আয়ে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো তো দূরের কথা, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক ঋণ করে পানের বরজ তৈরি করেছেন, কিন্তু এখনকার বাজারদরে ঋণের টাকা শোধ করা তো দূরের কথা, দৈনন্দিন খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতে অনেক পান চাষি দীর্ঘদিনের পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকদের এই দুর্দশা চলতে থাকলে এবং সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাহানা পারভীন লাবনী জানান, সার, খৈল, বরজ তৈরির বাঁশ এবং কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় পান চাষের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে পানের বাজারদর না বাড়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা এবং অনেকে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পান চাষের জন্য সরাসরি আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকলেও, ব্যবস্থাপনার জন্য সঠিক পরামর্শ প্রদান করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে, তার আবেদনের ভিত্তিতে উপজেলা পরিষদ বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সহায়তার সুযোগ রয়েছে।

কোল্ড ইনজুরি থেকে পান বাঁচাতে চাষিদের পলিথিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়েও অবহিত করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নগরীজুড়ে মাদক ও জুয়াড়ী সহ গ্রেপ্তার ৩৫

নগরীজুড়ে মাদক ও জুয়াড়ী সহ গ্রেপ্তার ৩৫